কিডনি ভাল রাখার উপায়। নাক ভাল রাখা ও সর্দি কাশি থেকে রক্ষার উপায় কী?

কিডনি আমাদের শরীরের এক আশ্চর্য ও অদ্ভূত অংশ। কিডনি শরীরের অপ্রয়ােজনীয় পদার্থ যেমন অতিরিক্ত লবন, পানি ও এসিড ইত্যাদির বর্জ্য পদার্থ প্রসাব/পায়খানার মাধ্যমে বের করে দেয় এবং উৎকৃষ্ট উপাদানের সমন্বয়ণ রক্তের হিমােগ্লোবিন তৈরী করে। কিডনিতে প্রায় ১০ লক্ষ ছাকুনি থাকে। মনে রাখতে হবে যে, ২টি কিডনী খারাপ হয়ে গেলে মৃত্যু অবধারিত। তবে ব্যয় বহুল চিকিৎসা যেমন হেমােডায়ালােসিস করে কোন রকমে কিছুদিনবেuচ থাকা যায়। কিন্তু নিয়মিত কোন স্বাভাবিক কাজ বা চাকুরী করা যায় না। তাই জীবনের প্রথম থেকে খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সতর্কতা / নিয়মানুবর্তিতা পালন করতে হবে। বেuচ থাকতে হলে কিডনিকে রক্ষা করতে হবে। কিডনি ভাল রাখতে হলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ/ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খুমপান করা যাবেনা। রক্তের শর্করা ও এ্যালবুমিন নিয়মিত পরীক্ষা করান। রঙ ও ক্যামিক্যাল মিশ্রিত ফল/খাবার কোন অবস্থাতেই খাওয়া যাবে না। এন্টিবায়ােটিক ও ব্যাথা নাশক ঔষধ ইত্যাদি গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুদের গলা ব্যাথা, খােশ-পাচড়া অব্যাহত থাকলে কিডনি প্রদাহ হতে পারে।

কিডনি ভাল রাখার উপায়। নাক ভাল রাখা ও সর্দি কাশি থেকে রক্ষার উপায় কী?

কিডনি ভাল রাখার জন্য চিনি, মিষ্টি, গুড় অতিমাত্রায় খাওয়া যাবে না। আমিষ জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। কমলা লেবু পরিমিত খাওয়া যেতে পারে। মাছ, মাংস, ডিম খেলে পাশাপাশি শশা/সালাদ ও লেবু খেতে হবে। তুলসি পাতার রস / তুলসি চা খেলে কিডনি সবল থাকে। দীর্ঘদিন আমাশায় / ডায়রিয়া বমি ও রক্ত আমাশয় থাকলে কিডনী হয়ে যেতে পারে। তাই কিনী ভাল রাখতে পাকস্থলীও ভাল রাখতে হবে। পাকস্থলী ভাল থাকলে আমাশায়/ ডায়রিয়া হবে না এবং গ্যাসও কম হবে। প্রসাব, পায়খানার বেগ হলে দেরি না করে দ্রুত ত্যাগ করতে হবে। দৈনিক অন্তত ৭/৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। প্রতিদিন বিকালে/সন্ধ্যায় মুক্ত বাতাসে অন্তত ৩০ মিনিট হাটতে হবে ও নিয়মিত হালকা যােগ ব্যায়াম করতে হবে। রাতে পেট ভরে খাওয়া যাবে না। ঘুমানাের ২ ঘন্টা পূর্বেই খাবারের পালা শেষ করতে হবে। রাতে ফলমুল ও মিষ্টি খাবার খাওয়া উচিৎ নয়। তাছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশী খেলে কিডনী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিডনি খারাপ হচ্ছে বুঝতে পারলে- কলা ও ডাবের পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। অন্যান্য ফল খাওয়া কমাতে হবে তবে অল্প পরিমাণ আপেল ও পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে। ফুলকপি, বাধা কপি, ঢেড়শ, সিম, বরবটি, কাঠালের বিচি, কঁু, মূলা, পালং শাক, পুই শাক, ডাল, মটরশুটি, সিমের বিচি কিডনি রােগী কম করে খেতে পারে, তবে না খেলে ভালাে। তাছাড়া কিডনি মােটামুটি ভাল থাকাকালে সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড়রা ৪ গ্লাস পানি পান করবেন এবং সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর পর ৩/৪ গ্লাস করে বিশুদ্ধ পানি পান করলে কিডনি সবল থাকে।

নাক ভাল রাখা ও সর্দি কাশি থেকে রক্ষার উপায়:-

সর্দির সময়ে বা মুখ ধােয়ার সময়ে নাকে জোরে চাপ দেয়া যাবে না। জোরে নাকে চাপ লাগলে, নাক বাঁকা করে সর্দি বের করলে নাকের মাংশের কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সর্দি আরাে বাড়িয়ে দেয় ও নাকের গঠন নষ্ট হয়ে যায়, নাক ফুলে যেতে পারে। তাছাড়া চিহড়ী, ইলিশ, বােয়াল, গরুর মাংস, হাuসর ডিম, আনারস বেশি খেলে এলার্জি ও শ্বাস কষ্ট হতে পারে। ধুলা বালু, ঠান্ডা ও গরম কম লাগালে সর্দিও কম হয়। কাচাঁ রসুন, প্রকৃত মধু, সরিষা ভর্তা ও কলােজিরা ভর্তা, তুলসি পাতার রস/তুলসি চাসহ পুষ্টিকর খাদ্য খান ও সর্দি থেকে বাঁচুন। কাশি হলে লেবুর রস, আদা ও মধু মিশিয়ে ১ চামচ করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। কাশির সাথে সর্দি থাকলে সামান্য মধু, খাটি ঘি এর সঙ্গে গুড়া মরিচ মিশিয়ে এক কাপ গরম দুধে মিশিয়ে রাতে ঘুমানাের আগে খেয়ে নিন। সর্দির সাথে কান ব্যাথা, মাথা ব্যাথা হলে কাপড় গরম করে কানের নিচে, গলায় সেক দিন। নাক আটকে গেলে নাকের ড্রপ দিন বা মেনথল যুক্ত কুসুম গরম পানির বাষ্প নাকে টানুন, তাতে নাক ভালাে থাকবে। চায়ের সাথে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দিশ্লেস্ম্য ভাল হয়। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড়রা ৪ গ্লাস পানি পান করবেন; সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর ৩/৪ গ্লাস করে পানি পান করুন এবং সর্দি কাশি ও নাক-কান-গলার সাথে জড়িত রােগ থেকে বা্ন। কানের রােগ কানে তীব্র শূল, শব্দ ও ক্লদ জন্মে তাহলে সৈন্ধব চূর্ণ মনসাবীজের রসের সাথে ঈষদুষঃ করে কানে পুরণ করলে অতি তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যায়। তাছাড়া, আকন্দের পাতা মৃদু অগ্নিতে গরম করে তার রস দিয়ে কান ভর্তি করে দিলে কর্ণশূল নিরাময় হয়।

পুর্তিকর্ণ রােগঃ শরষের তেল গরম করে ঈষদুষ্ণ থাকাকালে কানে ব্যবহার করলে পুর্তিকর্ন রােগের নিরাময় হয়ে থাকে। নিশিন্দা পাতার রস তিল তেল, সৈন্ধব লবন, ঝুল পুরােনাে গুড় ও মধু এই সব এক সাথে মিলিয়ে কানে ভরলে উপকার হয়। কর্ণের কৃমি রােগঃ কানে কদুর তৈল দিয়ে পূরণ করলে কানের কৃমি নষ্ট হয়। এগুলাে সাতদিন ব্যবহার করতে হবে।

নাসা রােগ।

শ্লে্মা জনিত নাক বন্ধ, ধােয়া বেরােনাের মত যন্ত্রণা নাক কখনাে শুষ্ক, কখনাে ভিজা, প্রাণ ও আস্বাদন শক্তি বিনষ্ট ইত্যাদি লক্ষণগুলাে দেখা দিয়ে থাকে তাহলে এই রােগীকে নাসা / পীনস রােগ বলে।

নাক হতে দুর্গন্ধ, পূজ, ক্লেদ, তরল বা গাঢ় শ্লেষ্ম বের হয়। হাঁচি শিরঃপীড়া, তালু ও ওষ্ঠ শুষ্ দেখা দেয়। পীনস রােগের প্রথম অবস্থায় মাথা ভার, তরল স্রাব নির্গত হয়। স্বরহীন অরুচি ও নাক থেকে অবিরত সর্দি করে।

তাছাড়া কুল, পিপুল, দেবদারু, সৈন্ধব লবন ও আপাং আরক প্রস্তুত করে তার নাস্য গ্রহণ করলে নাসা রােগ নিরাময় হয়। পিপুল, মরিচ, চিতামুল, তালিশপত্র, মহা অন্দা, অল্প বেতস, চই কারােজিনা ও শুঠ, এগুলাে প্রতিটি দ্রব্য ১৫গ্রাম করে ছােট এলাচ,

দারুচিনি ও তেজপাতা প্রতিটি দ্রব্য আড়াই গ্রাম করে এবং ১৫০ গ্রাম পুরােনাে গুড় একসাথে মিলিয়ে ভাল করে মর্দন করে দেড়

গ্রাম মাত্রায় সেবন করলে পীনস, কাস ও শ্বাস রােগ ভাল হয় এবং আহারে রুচি ও স্বর পরিস্কার করে।

Leave a Comment