চোখভাল রাখার উপায় কী? পেটভাল রাখতে যা করণীয়।

 চোখভাল রাখার উপায় কী?

দুরে বস্তু জোর করে দেখলে, ঘুম এলেও যদি শয়ন না করেন, দিনে দিনে শয়ন ও রাত জেগে থাকলে, চোখ ধােয়া বা ধুনা লাগালে, বমির বেগ রােধ করলে, মলমূত্রাদির বেগ রােধ করলে, অনেকদিক ধরে কাঁদতে থাকলে,শােকে ও সন্তাপে, মাথায় চোট লাগলে, অত্যন্ত তেজী ঘােড়ার পিঠে চড়লে, অত্যন্ত মৈথুন্য করলে, অশ্রুবেগ রােধ করলে চোখের রােগ হয়। পৃথিবীতে বিভিন্ন রােগের মধ্যে চোখের রােগ হলে একটু বেশী অসুবিধা হয়। তাই এই রােগ হওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসা করা দরকার। বিভিন্ন রকমের চোখের রােগ দেখা যায়।

চোখভাল রাখার উপায় কী? পেটভাল রাখতে যা করণীয়।


পেটভাল রাখতে যা করণীয়

বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, কেমিক্যালযুক্ত ও ভেজাল, পঁচা/ বাসি খাদ্য ড্রিংকস্ ও বাহিরের বােতলজাত খাবার পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত গরম ও অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কিছু খাবেন না। পায়খানা নরম হলে কাঁচা কলার ঝােল, পেপে ভর্তা, কাঁচা কলা ভর্তা, থানকুনি পাতা ভর্তা ও কলােজিরা ভর্তা, বেলের সরবত, ইসপগুলের ভূষি, তাজা ছােট মাছ ইত্যাদি খাবেন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার ও ভাজা-পােড়া এবং রাস্তার পাশের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। থানকুনি পাতার রস/বড়া খাবেন ও তরকারীতে আদা, পিয়াজ ও রসুন, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, ধনিয়া ইত্যাদি যথারীতি ব্যবহার করবেন। হামদার্দ ল্যবরেটরীর কারমিনাও বড়/ছােটদের পেটের সমস্যা দুরে, বড়দের ডাইরিয়/ আমাশয় হলে হামদর্দের মারবেলাস সিরাপ খাওয়া যেতে পারে। এক দিন বয়স থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের পেটে ব্যাথা, বদহজম, পেটে ফাপা, খিচুনী, বমি, ডাইরিয়া, দাঁত ওঠার সময় বদহজম, ঘুম কম ইত্যাদি হলে হামদার্দের নওনেহাল সিরাপ খাওয়ালে বিশেষ উপকার হবে। প্রিটিকন রান্না খাদ্য খেয়ে ভারত ও আমেরিকা আজকাল অনেক রােগীর রােগ নিরাময় করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই প্রিটিকিনের মত রান্না পদ্ধতি ব্যবহার করেও রােগ নিরাময় করা সম্ভব। পাকস্থলী ভাল রাখতে হবে, পাকস্থলী ভাল থাকলে গ্যাসটিক কম


হবে, গ্যাস কম হলে হার্টও ভালাে থাকে। রাতে কম খাবেন, রাতে খাবার দেড়/দুই ঘন্টা পরে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড়রা ৪ গ্লাস পানি পান করবেন এবং সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর ৩/৪ গ্লাস করে পানি পান করুন। এতে পাকস্থুলী ও ক্লোন পরিস্কার থাকবে।


আমাশয় ও রক্ত আমাশয়

বাসি-পচা বা গুরুপাক দ্রব্য খাওয়া, ভাজা, পােড়া, রাতে বেশী ঠান্ডা লাগানাে, দুর্বল শরীরে অতিরিক্ত রোদ লাগানাে, ম্যালিরিয়া রােগের জীবাণু শরীরে থাকা, শরীরকে বেশী রুক্ষ করা, মদ পান, পুর্বের আহার হজম না হওয়ার আগে পুনরায় খাওয়ার কারণে আমাশয় রােগ হয়ে থাকে। রক্ত আমাশয় হওয়ার আগে যদি অত্যন্ত কোষ্টবন্ধ হয়ে আমাশয় হয়ে থাকে অথবা মলের সাথে গুটলে ভাব দেখা যায় তবে খাওয়ায় সর্তক হতে হবে। পুরানাে তেঁতুল পানি গুলে চিনির বা আখের গুড়ের শরবত তৈরি করে খাইলে আমাশয়ের উপকার হয়।

লক্ষণঃ পেট ব্যথা ও কোথনি আমাশয় রােগের প্রধান লক্ষণ। রােগের প্রথমে বমি বা বমির ইচ্ছা, নাভির বেদনা ও জ্বর দেখা দিয়ে থাকে। তারপর ব্যথা বাড়ে, কোথনির সাথে বাহ্যের চেষ্টা, প্রস্রাবের কষ্ট, হাত পা ঠান্ডা মুখ লাল, হেচকি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। কেবল রক্ত আমাশয় এর সাথে রক্ত বা রক্তের সাথে আম, পেট ব্যথা ও কনকন করা, কোথনি প্রস্রাবে জ্বালা, অল্প মুত্র ত্যাগ, মল ত্যাগের পর আরও মল ত্যাগ হবে বলে বসে থাকে ইত্যাদি রক্ত আমাশয়ের লক্ষন।


চিকিৎসা:-

আমাশয় রােগীর পেটে অত্যন্ত যন্ত্রণা হয়ে থাকে। চিৎ করে শুইয়ে নাভির চারদিকে আমলকী বেটে তা দিয়ে বাঁধের মতাে তৈরি করে মধ্যভাগে গরম আদার রস পুর্ণ করতে হবে। ফলে খুই শ্রীষ্রই শূল বেদনা দূর হবে। আমশয় রােগিকে টাটকা ঘােল জামপাতা, দাড়িম পাতা, পানি ফলের পাতা, জল পিপুলের পাতার রস একত্রে পানীয় পিপাস যতবার পাৰে ততবার রােগীকে খাওয়ানাে যেতে পারে।


পেটের দোষের পরবর্তী অবস্থা আমাশায়। সাধারণ ঔষধ ব্যবহার করে পেটের সমস্যা আপাততঃ কমলেও কিন্তু আমশয় সম্পূর্ণ সারে । মাঝে মাঝে পায়খানা, সাথে অল্প আবার কখনােবা বেশি আম, এরকম অবস্থায় যদি সাবধান না হওয়া যায়, তারপরেই মলের সঙ্গে রক্ত পড়তে শুরু করে। তখন তাকে রক্ত আমাশয় বলা হয়।


আমাশয় উপবাস ক্ষতিকর। থানকুচি পাতার রস চা চামচের দুই চামচ সকাল ও সন্ধ্যায় দুই বেলা খাওয়াতে হবে। বাবলা কুড়ি, আখের গুড়ের সাথে ভাল করে বেটে ১৫দিন খেলে রক্ত আমাশর উপকার হয়। আর ছাগলের দুধে আমড়া ছালের রস মিশিয়ে কম পক্ষে তিনদিন ৪ চামচ করে প্রতিদিন দুইবার খেলে রক্ত আমাশয় ভাল হয়। চারা তেতুল পাতার ১০-১৫ গ্রাম আধা লিটার পানি সিদ্ধ করে আধা কাপ হতেই নামিয়ে ঠান্ডা হলে খালি পেটে সাতদিন সেবন করলে রক্ত আমাশয় ভাল হতে পারে। করলা পাতার রস ছােট দুই চামচ সাথে আদা রস করে খেলে আমাশয়ের উপকার হয়। বেল পাতা আর আখের গুড় খেলে আমাশয় রােগ ভাল হয়। আমাশয়ের প্রতিষেধক হিসেবেও প্রতিদিন ভাতের সাথে ঘােল খেতে হয়। বেলের শরবতেও আমশর উপকার করে। বিশেষ চিকিৎসা


পেট ফাটলে – আমলকী ভিজানাে পানিসহ সেবন করলে আমশর উপকার হয়। লাউপাতা সিদ্ধ করে তাতে পিয়াজ, সামান্য লবণ


মিশিয়ে ভাতের সাথে খেলে আমাশয়ের উপকার হয়।

Leave a Comment