ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায় কী? ব্রেইন ভাল রাখার উপায় কী?

 ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায়

ক) ডায়াবেটিস প্রতিরােধে আদর্শ ওজন বজায় রাখুন ও পরিমিত খাবার খান। দৈনিক ৩ বেলা পেট ভরে না থেয়ে অল্প করে ৫/৬ বার খান এবং প্রতিবার খাবার পর ১০ মিনিট করে হাটন।

খ) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধুমপান, এ্যালকোহল ইত্যাদি ত্যাগ করুন।

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায় কী? ব্রেইন ভাল রাখার উপায় কী?

 

গ) ডায়াবেটিস শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করে তাই নিয়মিত রক্তের শর্করা, এ্যালবুমিন, ক্রিয়েটেনাইন, লিপিড প্রােফাইল, এসজিপিটি, ব্লাড সুগার বিলুরুবিন, ইউরিয়া, প্রস্রাব, হার্টবিট, প্রেশার ইত্যাদি পরীক্ষা করুন ও যথাযথ খাদ্য গ্রহন ও চিকিৎসা নিন। ঘ) চিনি, মিষ্টি খাওয়া বন্ধ রাখুন, ডাল, সীমের বিচি/বীজ জাতীয় খাবার কম খান। তৈলাক্ত খাবার, দুধ, ডিমের কুসুম, মাংশ কম খান বা এড়িয়ে চলুন।

ও) আদা, পিয়াজ, রসুন, শশা, সালাদ, সবজি প্রচুর পরিমানে খান। হামদর্দের ছাফি ও অনুরূপ সিরাপ খেলেও ডায়াবেটিসের উপকার হয়। মর্ডাণ হারবালের ডায়াবেটিস কিউর/ত্রিফলা খেলেও রক্তের সুগার হ্রাস পায়। সপ্তাহে ৭ দিনের মধ্যে ৫দিন নিয়মিত সকালে ৩০ মিনিট ও সন্ধায় ৩০ মিনিট করে একটু জোরে জোরে হাটুন।

চ) প্রতি মাসে দুই দিন করে উপবাস থেকে উপবাসকালীন লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে ডায়াবেটিসের প্রভুত উপকার হয়।

এককালীন ৩ / ৪ দিন উপবাস করলে প্রসাবের সুগার অনেক কমে যায়। তবে দেহে বেশী চর্বি না থাকলে ও শরীর দুর্বল থাকলে এক বেলার বেশী উপবাস করা উচিৎ নয়।

ছ) ডায়াবেটিস হলে পা, চোখ, দাঁত ও মাড়ির যত্ন নিন। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকলে অনেক ক্ষেত্রে চোখে ছানি পড়ে। জ) সময়মত খাওয়া-দাওয়া ও দৈনিক অন্তত ৬/৭ ঘন্টা ঘুমান। দৈনিক সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে গ্লাস এবং ৩ বেলা খাবার ২ ঘন্টা পরে প্রায় খালি পেটে গ্লাস করে পানি খান। এতে ডায়াবেটিস প্রতিরােধসহ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

 

ব্রেইন ভাল রাখার উপায়:-

ফল মূল বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় ফল, কলা, দুধ, সয়াবিন, শস্য দানা, পাকা পেঁপে, সবুজ/রঙ্গিন শাক-সবজি, পালং শাক, গাজর, এলাচ, দারচিনি, লেবু, ধুন্দল, থানকুনি পাতার রস/বড়া, তুলসি পাতার রস/চা, কালাে জিরা, ব্লবেরী, স্ট্রবেরী, আধা, রসুন ও ভিটামিন এ বি’, “সি’ ই সহ নানা ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ভিটামিন এ, সি, ই মস্তিকের বিভিন্ন কোষের ক্ষয়রােধ করে এবং স্নায়ু ও রক্ত প্রবাহ সুরক্ষা করে। ভিটামিন এ, সি, ই ঘাটতি হলে মানুষ খুব। বিচলিত, রাগান্থিত, উত্তেজিত, খিটখিটে এবং ক্লান্ত ও অবসাদ গ্রস্ত হয়ে যায়। যারা মনসিক পরিশ্রম করেন যেমন অফিসে বা বাসায় বসে বসে মস্তিষ্ক চালনার দ্বারা দিনাতিপাত করেন কিন্তু শারিরীক পরিশ্রম করেন না তারা শর্করা ও মাখন জাতীয় খাদ্যের পরিমান করে যে সব খাদ্যে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর শক্তি বাড়ে এমন খাদ্য এবং আমিষ জাতীয় খাদ্য যেমন ছােট মাছ, সমুদ্রিক মাছ, দুধ, ছানা, ডিম, সামান্য চর্বিহীন মাংস ইত্যাদি খাবেন।

 

তাছাড়া পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেছেন শস্যকনা, যব, জই, আলু, গম, শিম, মটরশুটি, ফল এবং সবজি জাতীয় খাবার মস্তিস্ককে প্রচুর পরিমান কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যােগায়। এছাড়া বাদাম, চীনা বাদাম ও উহার তেল, সামুদ্রিক মাছ যেমন হেরিং, ম্যকারেল, টুনা, স্যামন মাছও মস্তিকের খাবার হিসাবে বেশ উপকারী, কারণ এই খাবারগুলােতে আছে এমন এক ধরনের এ্যাসিড যা স্ট্রোক এবং এজাতীয় নানা রােগের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই মাথার স্বাস্থ্য ভাল রাখে; ঢেকি ছাটা চাল, চালা হয়নি এমন আটা-ময়দা, নানা শস্যের মধ্যে ভিটামিন ই রয়েছে। তাই ভিটামিন ই যে সকল খাদ্যে আছে তা খেলে মন্তিষ্ক ভাল থাকে। রসুন ও সয়াবিন তেলে রক্তের ক্ষতিকারক এলডিএল কোলেষ্টরাল এর মাত্রা কমায় ফলে ধমনী ও মস্তিষ্কের কোষগুলাে সবল থাকে।

 

অন্যদিকে চকলেট, মাকস এবং বাহিরের তৈরী অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার খুব মুখরােচক হলেও মস্তিকের জন্য তেমন উপকারী নয়। অত্যাধিক টেনশন ও তাড়াহুড়া ত্যাগ করতে হবে, সময় হাতে নিয়ে ধীর স্থির ভাবে সকল কাজ করতে হবে। সর্দি কাশি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

 

স্বল্প সময়ের জন্য হলেও দৈনিক দুইবার হাসির আভড়া বসাতে হবে ও হাস্যজল থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড়রা ৪ গ্লাস পানি পান করবেন এবং সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর পর ৩/৪ গ্লাস করে বিশুদ্ধ পানি পান করবেন। রাতে সম্পূর্ণ ভরা পেটে ঘুমালে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে যা মস্তিসহ স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। রাতে ঘুম কম হলেও উক্ত পানি চিকিৎসায় উপকার হবে। রাতে ঘুমানাের দেড়/দুই ঘন্টা পূর্বে ৪ গ্লাস পানি পান করতে হবে, এর পর ঘুমানাের পূর্বে কিছু খাওয়া যাবে না অর্থাৎ ৩/৪ ঘন্টা পূর্বে রাতের মুল খাবার খেতে হবে। তবেই বেশী উপকার পাওয়া যায়।

Leave a Comment