ফুসফুস ভাল রাখুন, স্বাসকষ্ট থেকে মুক্ত থাকুন | হাপানী (Asthma) থেকে রক্ষার উপায়।

ধুলাবালি, ধােয়া, কল কারখানা/ গাড়ীর নির্গত কার্বন, পায়খানা ও পঁচা দূর্গন্ধ, বিষাক্ত গ্যাস ও কেমিক্যালের গদ্ধ ইত্যাদি ফুসফুসে গেলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়। তাই এইসব থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশুদ্ধ বাতাসে ভ্রমন করতে হবে, তুলসী পাতার রস/ তুলসি চা, আঙ্গুরসহ নানা ফলমূল খাবেন, ফুসফুস ভালাে থাকবে। 

 

ফুসফুস ভাল রাখুন, স্বাসকষ্ট থেকে মুক্ত থাকুন | হাপানী (Asthma) থেকে রক্ষার উপায়।

 

অতিরিক্ত গরম ও ঠান্ডা লাগলে ফুসফুসের ক্ষতি হয় ও কাশির সৃষ্টি হয়, ফুসফুসও খাদ্য নালীর সাথে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাদ্য গ্রহণ করতে সাবধান হােন। পাকস্থলীর সমস্যাসহ খাদ্য নালী ও শ্বাস নালীর সমস্যায়ও কাশি বাড়ে। রাগেও ফুসফুসের ক্ষতি হয়। তাছাড়া চিহড়ী, ইলিশ, বােয়াল, গরুর মাংস, হাuসর ডিম, পাকা কলা, আনারস বেশি খেলে এলার্জি ও শ্বাস কষ্ট হতে পারে। হামদর্দের সাদুরী বা অনুরূপ সিরাপ এবং নিয়মিত অল্প মধু খেতে পারেন। উল্লেখ্য যে, ফুসফুসে দুর্গন্ধ না গেলে এবং দুর্বল না হলে আমরা শত শত বছর বেঁচে থাকতে পারি। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড়রা ৪ গ্লাস পানি পান করবেন এবং সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর ৩/৪ গ্লাস করে পানি পান করুন এবং কাশি ও ফুসফুসের রােগ থেকে মুক্ত থাকুন।

 

হাপানী (Asthma) থেকে রক্ষার উপায়:

হাপানীর সাথে এলার্জি ও অন্যান্য কয়েকটি বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। ধুলাবালি, দুর্গন্ধ/দুষিত বাতাস, শীতল বাতাস, ধুমপান, দীর্ঘদিন কাসি, ঔষধে প্রতিক্রিয়া, মানষিক চাপ ইত্যাদির কারনে হাপানী হয়ে থাকে। গুরুতর হাপানীতে মানুষ মারাও যায়। হাপানি যে সকল কারনে হয় উহা থেকে দূরে থাকতে হবে।

হাপানী নিবারণ/নিয়ন্ত্রক করতে পারলে নতুন করে হাপানী হবেনা। জীবনযাপন প্রণালী পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পরিবর্তন করতে পারলে হাপানী অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। কোল্ড এলার্জি/ঠান্ডার রােগ থাকলে অনেক বিবাহিতা পুরুষ-মহিলাদের শীতকালে ঘন ঘন মেলামেশার কারণেও হাপানী বৃদ্ধি পেয়ে থাকে যাহা শরীরের Resistance Power (প্রতিরােধ ক্ষমতা) কম থাকার কারণেও হয়। রাত্রীকালীন কাশি বৃদ্ধি, শরীর অত্যাধিক দূর্বল হওয়া, ঘুম ভালাে না হওয়া, চোখ ব্যাথা/অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া, নাক লালচে হওয়া চামড়ায় জালাপােড়া/চুলকানি ইত্যাদি হলে বুঝতে হবে হাপানি আরাে বৃদ্ধি পাবে, তাই অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।

ইনহেলার ব্যবহারে হাপানীতে হঠাৎ আক্রান্ত রােগীর কিছুটা উপশম হয়। হাপানী নিবারণ, হাপানী দ্রুত আরােগ্য লাভের জন্য রােগ প্রতিরােধক খাবার খেতে হবে, শরীরে রক্ত বিশুদ্ধ ও পর্যাপ্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও কুসুম গরম পানি প্রচুর পরিমানে পান করতে হবে। ধুলাবালি, শীতল বাতাস, ধুমপান, রং করা খাবার গ্রহন, কেমিক্যাল মিশ্রিত প্রসাধনী ব্যবহার ও ধুমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। হামদর্দের সাদুরী বা অনুরূপ সিরাপ ও মধু খেলে হাপানী কমে। তাছাড়া মর্ডাণ হালবালের এজমা কিউর খেলে উপকার পাওয়া যায়। অত্যাধিক ঔষধ সেবন করা উচিত নয়, মানুষিক চাপও কমাতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, থানকুনি পাতা, তুলসী পাতার চা, সরিষা ভর্তা, কালজিরা ভর্তা, দৈনিক এক টুকরাে কাচা আদা, এক টুকরাে পেয়াজ ও এক টুকরাে রসুন খেলে হাপানীসহ অনেক রােগের উপকার হয়। বিভিন্ন ফলের (আঙ্গুর, আপেল, বেদেনা, পাকা পেপে, আম, তরমুজ, মালটা ইত্যাদির) তাজা জুস খান। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, রঙ্গীন সবজি, গাজর, শশা ইত্যাদি খান। ফুসফুস ভাল রাখুন, দেখবেন হাপানি, কাশি ইত্যাদিও ভাল হয়ে গেছে। রং করা খাবার, রং করা পিঠা, ডিম, ডেইরী প্রডাক্টস, বাহিরের জেলী, বাদাম, কোন কোন মাছ,

যেমন: চিংড়ী, হিলসা, বােয়াল ইত্যাদিতে হাপানী বােগ বৃদ্ধি করতে পারে, তাই হাপানীর সম্ভাবনা বুঝতে পারলে এগুলাে খাবেন না।

মানসিক টেনশন হতে হাপানি রােগীর শ্বাস প্রশ্বাস বেড়ে যায়। হরিতকী শুকিয়ে গুড়াে করে প্রত্যেহ সকালে এক চামচ করে খাইলে হাপানী রােগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রত্যেহ কাঁচা আমলকি বা আমলকির মােরববা খাইলেও বিশেষভাবে উপকার হয়ে থাকে। তাই হাপানী রােগীর প্রতিদিন আমলকি বা

 

আমলকির মােরববা নিয়মিত সেবন করা দরকার।

১০ গ্রাম আদাকে থেতাে করে গব্য ঘিয়ে আগুনে ভেজে মধু দিয়ে খেলে টেনশনজনিত হাপানী কমে যাবে। গােল, মরিচ, তুলসী পাতা মধু দিয়ে খাইলে কাশি ও হাপানী কমে যায়।

তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড়রা ৪ গ্লাস পানি পান করবেন; সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর ৩/৪ গ্লাস করে পানি পান করুন এবং হাপানী রােগ থেকে বাচুন।

Leave a Comment