ফেসবুক পেজ থেকে আয় ২০২১ ।। ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

ফেসবুক পেজ থেকে আয় ২০২১: পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক। আপনারা অনেকেই জানেন ইউটিউব থেকে চ্যানেল বানিয়ে সেখান থেকে অনলাইনে টাকা আয় করা যায় কিন্তু অনেকেই জানেন না বর্তমানে ফেসবুক থেকেও টাকা আয় করা যায়? হ্যাঁ ঠিক শুনছেন ফেসবুক থেকেও এখন অনলাইনে ঘরে বসে আয় করা সম্ভব। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখন ফেসবুক থেকে অনলাইনে আয় করার সেই সূবর্ন সুযোগ চালু করে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?  হ্যাঁ সেই আলোচনা আজকের পোষ্টে । আজকের পোষ্টে আমরা জানব ফেসবুক পেজ থেকে আয় ২০২১ সম্পর্কে

বর্তমান যুগ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ।  এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা প্রায় সকলেই সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করে থাকি। আমাদের মধ্যে কেউ হয়তো ইউটিউব ভিডিও দেখি, কেউ ফেসবুকে পোষ্ট পড়ি, কেউ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করি। সুত্রাং আমরা প্রায় সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোন না কোন ভাবে ব্যবহার করছি। বর্তমান সময়ে আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই কমবেশি  সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে যুক্ত। আর এত বিপুল সংখ্যক লোক যখন ফেসবুকের সাথে সরাসরি সংযুক্ত তখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল তাদের ব্যবহার কারীদের ফেসবুক থেকে আয়ের একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া। অবশেষে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবহারকারীদের ফেসবুক থেকে আয় এর বিভিন্ন উপায় করে দিয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ফেসবুক পেজ থেকে টাকা আয়ের উপায় সম্পর্কেঃ

ফেসবুক পেজ থেকে আয় ২০২১

ফেসবুক হতে  টাকা যে সত্যিই আয় করা যায় এই কথাটা এখন আর কিন্তু  গুজব না । ফেসবুক হচ্ছে  সারা বিশ্ব এর  সব থেকে জনপ্রিয় আর সব থেকে বড় সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যম । আর এই সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রত্যেক মাসে প্রায়  ২.৪  বিলিয়ন এর থেকে বেশি ব্যবহারকারী সক্রিয় রয়েছেন যা  প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় বিশ্বে প্রত্যেক দিনই গড়ে প্রায়  ১.৪৯ বিলিয়ন  মানুষ  ফেসবুক  ব্যবহার করে থাকেন।  আপনারা একটা কথা শুনলে আরো অবাক হয়ে যাবেন  সারা বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায়  ৫ টি নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়ে থাকে ।  আর  এই  সকল কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিন্তু  ফেসবুকের  অফিসে ৪৪,৪৯২ জন স্পেশালিস্ট  প্রত্যেকদিন কাজ করে থাকেন । (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)

ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার জন্য এখন অনেক গুলোই পদ্ধতি আছে  । এখন আমি ধাপে ধাপে সে উপায় গুলো আলোচনা করবো এবং আপনাকে একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন দিব যাতে আপনিও ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারেন খুব সহজেই। আপনারা যদি চেষ্টা করেন তাহলে কিন্তু আপনাদের হাতে থাকা ছোট  স্মার্টফোনটা  দিয়েও টাকা আয়  করা শুরু করে দিতে পারবেন ।  তাই আজকে আমাদের এই  লেখার ভিতরে আমরা আলোচনা করব যে , ফেসবুক হতে টাকা  আয় করবার যে  পদ্ধতি গুলো আছে সেগুলোকে পয়েন্ট আকারে।

কিভাবে ফেসবুক পেজ থেকে আয়  করা যায়?

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখন ফেসবুক পেজ থেকে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনি চাইলে এখন ফেসবুক পেজ  খুলে সেখান থেকে আয় করতে পারবেন অনায়াসে। আপনি একটা ফেসবুক পেজ থেকে লংটাইম আর্ন করতে পারবেন। তার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ফেসবুক পেজ খুলতে হবে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে পেজ কিভাবে খুলবো? ফেসবুক পেজ খোলার কিছু সুনির্দিষ্ট  নীতিমালা আছে যা আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে। তাই ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম সবার আগে  জেনে নিন।

ফেসবুক পেইজ খোলার পর আপনাকে সেই পেজে কনটেন্ট, ভিডিও ইমেজ ইত্যাদি যে কোন বিষয়ের উপর নিয়মিত পোস্ট করে যেতে হবে। এরপর সেই পোষ্টগুলো আপনার বন্ধু-বান্ধব, আপনার পরিবারের লোকজন এবং আত্মীয়স্বজন সবার কাছে শেয়ার করতে হবে। আস্তে আস্তে যখন আপনার পেজের লাইক এবং ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়বে তখন আপনি আপনার পেজের মাধ্যমে আফিলিয়েট মার্কেটিং  করে সেখান থেক আয় করতে পারবেন।

এছাড়া আপনি আপনার ফেসবুক পেজে যে কনটেন্ট আপনি নিয়মিত পাবলিশ করছেন সেই কনটেন্ট রিলেটেড অনেক কোম্পানি আছে আপনি চাইলে  সেখান থেকে স্পনসরর্শিপ নিয়ে তাদের প্রোডাক্ট কে প্রমোট করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। তাই আপনার পেজে কন্টেন্ট পাবলিশ করার আগেই একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা করে নিবেন যেন আপনি সবসময় একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করতে পারেন।

তাছাড়াও আপনি এখান থেকে ভিডিও মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। আপনার ফেসবুক পেজে যখন ৩০ হাজারের বেশি ফলোয়ার হবে তখন আপনি আপনার ফেসবুক পেজের ভিডিও গুলো মনিটাইজ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনি ভিডিও মনিটাইজেশন এর মাধ্যমেও  ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনার যদি একাধিক ফেসবুক পেজ থাকে এবং সে পেজগুলোতে যদি অনেক ফলোয়ার থাকে তাহলে আপনি সেই পেজ গুলো বিক্রি করার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন।

ফেসবুকে  ভিডিও আপলোড করে  আয় করুন

কথাটা শুনে অবাক লাগছে? না অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইউটিউব এর ন্যায় ফেসবুকেও এখন ভিডিও আপলোড করে টাকা ইনকাম করা যাচ্ছে। আপনি  চাইলে আপনার ফেসবুক ভিডিও গুলোতে মনিটাইজ করে ইউটিউব এর মতো ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। ইউটিউবে যেমন গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে ভিডিও মনিটাইজ এর মাধ্যমে টাকা আয় হয় তেমনি ফেসবুকে এড চয়েজের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা যায়। ফেসবুক এ  টাকা আয় করবার জন্য এই সুবিধাটাকে বলা  হয়ে থাকে  Facebook Ads Break। এক কথায় যদি বলি তা হলো আপনাদের ভিডিওতে  ফেসবুক অ্যাড দেখাবে, সেই অ্যাড হতে আয় করার পর কিছুটা অংশ আপনাদেরকে  দিয়ে দিবে। আর এই  সুবিধাটা পাওয়ার জন্য আপনাদেরকে বেশ কয়েকটা তাদের শর্ত  আছে সেগুলোকে পূরণ করা লাগবে । প্রথমত আপনাদের যে পেইজটি আছে , সেটা তাদের কাছে  কিন্তু  মনোনীত হওয়া লাগবে । এই ক্ষেত্রে তাদের শর্তসূমহ হচ্ছেঃ আপনাদের যে  ফেসবুক  পেজ রয়েছে সেই পেজে  ১০,০০০ হাজার ফলোয়ার থাকা লাগবে । গত  ৬০ দিনে ১৫,০০০ হাজার মানুষদের কাছে  আপনাদের পোস্ট/ভিডিও পৌছানো লাগবেই।  আগের  ৬০ দিনেই আপনাদের  ফেসবুক  পেজ এর ভিতরে যে ভিডিও গুলো আছে সেই   ভিডিওতে কম করে হলে ও ৩০,০০০ হাজার ভিউস থাকা লাগবে,  আর প্রত্যেকটা  ভিউ কম করে হলে ও  ১ মিনিটের হওয়া লাগবে । এ ছাড়া  আপনাদের প্রত্যেকটা  ভিডিও কম করে হলে ও  ৩ মিনিটের মত  লম্বা হওয়া লাগবে । কেননা , ৩ মিনিটের ছোট ভিডিও যে গুলো থাকে সেগুলোতে আসলে কিন্তু  ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে  না। আপনাদের  বয়স অবশ্যই কম করে হলে ও  ১৮ বছর হওয়া লাগবে । ফেসবুক এর Partner Monetization Policies মেনেই কিন্তু আপনাদেরকে ভিডিও তৈরি করা লাগবে ।

এ ছাড়া ও কিন্তু লাইভ ভিডিও বানিয়ে ও আপনারা চাইলেই   টাকা আয় করে নিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আপনাদেরকে  লাইভ ভিডিও এর  শর্তগুলো হচ্ছে :-  ভিডিও গুলো  ৪ মিনিট এর থেকে  বেশী হওয়া লাগবে । কম করে হলে ও  ৩,০০ জন ভিডিওটিকে দেখা লাগবেই ।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা আয়

আপনাদের হয়তো  Facebook market place এর ব্যাপারে জানা আছে ? ফেসবুকের এই সার্ভিস দ্বারা আপনি যেকোনো product, service বা offer এই জায়গায় লিস্ট করতে পারবেন এবং আপনার ফ্যান ফলোয়ারদের দেখাতে পারবেন। এটি একটি online shopping website এর মতো যেখানে যে কোনো ফেসবুক একাউন্টধারী ব্যক্তি নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে এবং তার দ্বারা টাকা ইনকাম করতে পারবে।

সহজ ভাবে বলা যায়, আপনি যদি কিছু বিক্রয় করতে চান, তাহলে ঘরে বসেই “Facebook মার্কেট প্লেসের” দ্বারা সেই জিনিষটির বিজ্ঞাপন হাজার হাজার মানুষদের ফেসবুকের মাধ্যমে দেখিয়ে বিক্রয় করতে পারবেন।

এতে, ঘরে বসেই আপনি আপনার প্রোডাক্টের জন্য কাস্টমার (customer) পেতে থাকবেন এবং আপনার প্রোডাক্ট বিক্রয় এর মাধ্যমে লাভ হতে থাকবে।

Market place দ্বারা টাকা কিভাবে কমাবেন ?

আপনাকে প্রথমে একটি ভালো এবং চাহিদা থাকা পণ্য পাইকারী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে ক্রয় করতে হবে। যেমন,  সুন্দর সুন্দর অর্নামেন্ট, স্টাইলিশ শাড়ী, ছেলেমেয়েদের  কাপড় বা যেকোনো ধরেনের প্রোডাক্ট যার মার্কেটে চাহিদা বেশি।

এরপর সেগুলো আপনার নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে “Facebook market place” এ গিয়ে প্রোডাক্ট এর ছবি, প্রোড়াক্ট ডিটেলস, নিজের মোবাইল নম্বর এবং দাম সহ সবকিছু মার্কেট প্লেস এ দিয়ে দিতে হবে।

এখন, আপনার দেয়া প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন আপনি নিজের ফেসবুক গ্রুপ, প্রোফাইল এবং “promote ad” অপশনের সাহায্যে  যেকোনো শহর, দেশ বা লোকাল জায়গায় প্রদর্শন করাতে পারবেন।

সেখান থেকে আপনার দেয়া প্রোডাক্ট যদি কারো ভালো লাগে, তাহলে সে আপনাকে ডাইরেক্ট মোবাইল নম্বরে ফোন করে দামাদামি বা প্রোডাক্ট এর সম্পর্কে কথা বলতে পারবে। এভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেকে ঘরে বসেই নিজের অনলাইন ব্যবসা চলিয়ে টাকা আয় করছেন।

তাই বলছি আপনিও পারবেন। মনে রাখবেন, অনলাইন ব্যবসার মূল মন্ত্র হলো পণ্যের চাহিদা এবং কম দাম।  যদি আপনি চাহিদা থাকা কোনো প্রোডাক্ট লোকাল মার্কেট থেকে কম দামে বিক্রি করেন, তাহলে সেই প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুক থেকে আপনি অনেক কাস্টমার পেয়ে যাবেন। বিশেষ করে আপনার লোকাল এরিয়া বা স্থানীয় জায়গার থেকে কাস্টমার পাওয়া অনেক সহজ।

কারণ, আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে বিশেষ কোরে আপনার শহরের বা আসে পাশে থাকা লোকেরাই  ফ্রেন্ডস হিসেবে আপনার সাথে জড়িত। তাই, সেই ফ্রেন্ডসদের আপনি আপনার কাস্টমার বানিয়ে নিতে পারবেন এবং প্রোডাক্ট বা জিনিস ডেলিভারি দিতেও আপনার তেমন অসুবিধে হবেনা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে  আয়

আপনি ইচ্ছা করলে আপনি আপনার ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আপনার যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা না থাকে তাহলে জেনে নিন  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো কোন কোম্পানি  বা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট সেল করে দেওয়া। তাদের প্রোডাক্ট আপনি বিক্রি করে দিলে তারা সেই প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য আপনাকে কিছু কমিশন দিবে আর এটাকেই বলা হয়ে থাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য অনেক বড় বড় ওয়েবসাইট রয়েছে আপনি চাইলে সেই সকল ওয়েবসাইটগুলোর অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যোগদান করতে পারেন। যার মধ্যে আমাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্ট অন্যতম। আপনি এই ওয়েবসাইটগুলোতে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগদানের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারেন। আর আপনার পেজের কন্টেন্ট যদি টেক বিষয়ক হয়, তাহলে তো কোন কাথাই নেই, আপনার ফেসবুক পেজ থেকে হিউজ পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ফেসবুক এডস এর মাধ্যমে আয়

আপনি যদি ফেসবুকে কিছু টাকা ইনভেস্ট করেন তাহলে ফেসবুক এড ব্যবহার করে খুব সহজে সেখান থেকে  আয় করতে পারবেন। এই পদ্ধতি আসলে ফ্রী  না তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে আপনি এখান থেকে যেই টাকা ইনভেস্ট করবেন তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারবেন। ফেসবুক হলো বিশাল একটি ভিজিটর সোর্স এবং এখানে সব সময় কোটি কোটি অ্যাক্টিভ ভিজিটর থাকে।

ধরুন আপনার কাছে হয়তো অ্যামাজনের বা ফ্লিপকার্টের কিছু প্রোডাক্ট আছে সেটা মোবাইল টি-শার্ট গাড়ি বা কোন গ্যাজেট হতে পারে বা কোন রিসেলিং অ্যাপের প্রোডাক্টও হতে পারে। এই সকল কোম্পানির প্রোডাক্ট এর এফিলিয়েট লিংক আপনি যদি আপনার ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে শেয়ার করেন এবং সেখান থেকে যদি আপনার প্রোডাক্টের অল্প কিছু লোকজন আগ্রহী হলো এবং কয়েকটা প্রোডাক্ট সেল হলো।

আর আপনি যদি আপনার ওই প্রোডাক্ট ফেসবুক অ্যাড ইউজ করে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন তাহলে হয়তো এখানে অনেক প্রডাক্ট বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেক্ষেত্রে আপনার আয়ের পরিমাণটাও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে ।

তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছেন ফেসবুকে এড যদি সঠিকভাবে রান করা যায় এবং সেটা বুদ্ধি খাটিয়ে করা যায় তাহলে আপনি যা ইনভেস্ট করবেন তার তিন থেকে কয়েকগুন বেশি আপনি সেখান থেকে রির্টান পাবেন।

ফেসবুক গ্রুপ থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়

ফেসবুক গ্রপ মার্কেটিং টা যদি আপনি ভালোভাবে করতে পারেন তাহলে আপনি এখান থেকে  অনেক বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। মনে রাখবেন, ফেসবুক পেজ হলো একমুখী কমিউনিকেশন সিস্টেম। অর্থাৎ, এখানে শুধু আপনি কথা বলবেন আর আপনার শ্রোতারা আপনার কথা শুনে যাবে কিন্তু তারা কিছু বলতে পারবে না। অন্যদিকে ফেসবুক গ্রুপ হলো দ্বিমুখী কমিউনিকেশন ব্যবস্থা যাকে বলা হয় একটি কমিউনিটি। অর্থাৎ, এখানে আপনিও কথা বলবেন আপনার ফ্লোয়াররাও কথা বলতে পারবে। আপনার গ্রুপে যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে আপনার ফ্লোয়াররাই আপনার বিজনেসের মার্কেটিং করে দিবে। এটি ফেসবুকে মার্কেটিং করার একটি নির্ভরযোগ্য উপায়।

তাহলে নিশ্চয় বুজতেই পারছেন, আপনি যদি একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করতে পারেন তাহলে আয় করার অসংখ্য উপায় আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে, সমসময় আপনাকে আপনার গ্রুপে ফ্লোয়ারদের বিভিন্ন একটিভিটির মাধ্যমে এনগেইজড রাখতে হবে।

ফেসবুক মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করার উপায়

আশা করছি ফ্রিল্যান্সিং কি সে সম্পর্কে নিশ্চয় আপনাদের পরিপূর্ণ ধারণা আছে।  ফাইভার, আপওয়ার্ক সহ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে গেলে দেখা যায় ফেসবুক মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার জন্য অসংখ্য জব অফার আছে। যদি আপনি ফেসবুক মার্কেটিং ভালোভাবে শিখতে পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর টাকা ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে এখান থেকে।

তারজন্য ফেসবুকে এড কিভাবে রান করতে হয় তা আপনাকে শিখতে হবে। ক্লায়েন্ট আপনাকে তার ফেসবুক পেজ ম্যানেজমেন্ট করার জন্য হায়ার করবে। সুতরাং ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ কিভাবে চালাতে হয় তা শিখে ফেলুন। আর এই কাজগুলো আপনি মোবাইল এর মাধ্যমেও করতে পারেন। ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় এবং মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকামের জন্য ফেসবুক হলো সবচেয়ে ভালো মাধ্যম।

ফেসবুক পেজ বিক্রি করে আয় করুন

অনেক ইউটিউবের চ্যানেল মালির বা ব্লগার আছে যারা নিজের ব্লগ বা চ্যানেলের প্রোমোশনের জন্য অনেক সময় ফেসবুক পেজ কিনতে চান। যদি আপনার Facebook page এ ভালো সংখ্যায় লাইক থাকে তাহলে আপনি সেই পেজ ভালো দামে বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারবেন।

আপনার পেজ বিক্রি করতে চাইলে একটি পোস্ট নিজের ফেসবুক গ্রুপ বা একাউন্টে দিয়ে দেখতে পারেন। এছাড়াও, ফেসবুকে অনেক কেনা/বেচা গ্রুপ রয়েছে সেগুলিতে গিয়ে আপনি নিজের পেজ বিক্রি করার বিজ্ঞাপন/পোস্ট দিতে পারেন। যদি কেউ আপনার পেজ ক্রয় করতে চান, তাহলে সে আপনাকে সরাসরি ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে।

ফেসবুক লাইক বিক্রি করে টাকা আয় করুন

আপনাদের যদি একটা জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ থাকে যেখানে অনেক ফলোয়ার্স রয়েছে, অনেক  লাইক আছে। তাহলে আপনি সেই ফেসবুক পেজ থেকে মার্কেটের অনেক কোম্পানি আছে যাদের ফেসবুক পেজে লাইক বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে বা কোনো ইভেন্ট প্রচার করে দেওয়ার মাধ্যমে  অথবা বিভিন্ন ওয়েবসাইট এর লেখাটিকে  শেয়ার করে সেইটাকে সকলের  কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আপনি প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন। ফাইবার মার্কেটপ্লেস রয়েছে, সেখানে ঢুকলে আপনারা এরকমের অনেক অফার দেখতে পারবেন ।  সাধারণত অনেক অনলাইন মার্কেটের রয়েছেন যারা মূলত  ১,০০০  লাইক এর জন্য  ৫০০-৮০০  টাকা নেয় । আপনাদের ভিতরে যাদের পেজে ভালো পরিমাণে একটা  ফলোয়ার আর লাইক রয়েছে তাদের কাছে ১,০০০ লাইক  বাড়িয়ে দেওয়া কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র ।

একাউন্ট পরিচালনা করে দিয়েও  আয় করতে পারবেন

অনেক সময় দেখা যায় যে, বিখ্যাত ব্যক্তি অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর  ফেসবুক পেজ  কিংবা  একাউন্ট পরিচালনা করে দিলে তারা টাকা প্রদান করে  থাকেন । এই কাজগুলো কিন্তু আপনারা  ঘরে বসে ও করতে পারবেন । যদি আপনারা  ফেসবুক পরিচালনা করাতে  অভিজ্ঞ হয়েই  থাকেন তা হলেই আপনারা আপনাদের  এই অভিজ্ঞতাকে  কাজে লাগিয়েই  খুব সহজ এই  ফেসবুক হতে  টাকা আয় করতে পারবেন ।

আমাদের শেষ কথা

ফেসবুক পেজ থেকে আয় ২০২১ এই সম্পর্কে আপনাদের একটি পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ফেসবুক পেজ থেকে টাকা আয় করার আরও অনেক উপায় আছে। তবে যে কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আমরা আজকে আলোচনা করলাম এই মাধ্যমগুলো হলো ফেসবুক থেকে টাকা আয়ের এর সব থেকে জনপ্রিয় কয়েকটি মাধ্যম। আপনিও  চাইলেফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। তার জন্য আপনার মধ্যে থাকতে হবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং হার না মানার প্রত্যয় তাহলে আপনি ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারেন ।

আরও পড়ুনঃ

১।  স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে আয় করার সেরা ৫ টি উপায়
২।   Affilate Marketing থেকে টাকা আয় করার সহজ উপায় কি

Leave a Comment