[ফ্রীল্যান্সিং] কিভাবে কাজে বিড করবেন? কাজ পাবেন কিভাবে? টাকা কিভাবে পাবেন?

 এর আগের চারটি খন্ডে ফ্রীল্যান্সিং এর বেসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারনা, কোথায় কাজ পাবেন, কি কাজ পাবেন এবং খুটিনাটি ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে। যারা এই খন্ড প্রথম দেখছেন অবশ্যই আমাদের সাইট থেকে আগের পাট তিনটি দেখে নিন। আজকের পাটে থাকছে কিভাবে কাজে বিড করবেন, কাজ পাবেন কিভাবে, টাকা কিভাবে পাবেন।

[ফ্রীল্যান্সিং] কিভাবে কাজে বিড করবেন? কাজ পাবেন কিভাবে? টাকা কিভাবে পাবেন?

[ফ্রীল্যান্সিং] কিভাবে বিড করবেন??

ফ্রীল্যান্সিং সাইট যেমন- odesk.com, freelancer.com ইত্যাদিতে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং অ্যাকাউন্ট খােলার পর আপনার প্রােফাইল ১০০ ভাগ পূর্ণ করতে হবে। তারপর আপনার বিড করার পালা শুরু হবে। বিড করা কি সেটা আগেই বলেছি, বিড করার অর্থ হল কাজের জন্য আবেদন করা। ব্রাউজ ওয়ার্ক এ গেলেই আপনি কাজের তালিকা দেখতে পাবেন, সেখান থেকে আপনার পছন্দ মত আপনি যেই যেই কাজ পারেন সেই সব কাজ বেছে নিবেন এবং সেই কাজটি করার জন্য আপনাকে আগে বিড করতে হবে মানে কাজটি আপনি করতে পারবেন কিনা তার জন্য ক্লাইন্ট এর কাছে আবেদন করতে হবে। এরপর ক্লাইন্ট আপনাকে যদি সিলেক্ট করে তাহলে আপনি কাজটি করতে পারবেন। তাে চলুন দেখে নেই কিভাবে কাজের জন্য বিড করতে পারবেন। আগেই বলে রাখি, ওডেস্কে আপনি ১০০ ভাগ পূর্ণ প্রােফাইল নিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১৫ টি বিড করতে পারবেন, আর ফ্রিল্যান্সার এ আপনি প্রতি মাসে ৬০ টি বিড করতে পারবেন, ইল্যান্স এ পারবেন ৪৮ করতে পারবেন। কিভাবে বিড করতে হয় তার সম্পর্কে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল পাবেন সেখান থেকে বিস্তারিত দেখে নিন। যদি লিখে বোঝাতে চাই পোস্টটি অনেক বড় হয়ে যাবে। 
ফ্রীল্যান্সিং বিড করার সময় একটি বড় লক্ষনীয় বিষয় হলো কভার লেখা। নতুনদের জন্য ভাল মানের কভার লেটার লেখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে আপনি কি লিখবেন এর উপরই কিন্তু আপনি কাজ পাবেন নাকি পাবেন না এটা নির্ভর করে। কাজেই ভাল মানের এবং টেকনিক্যালি কভার লেটার লেখাটা অতি জরুরি। কাজেই শুধুমাত্র নতুনদের জন্য কাভার লেটার লেখার কিছু ট্রিক দিলাম।

কভার লেটার লিখার কিছু টিপস :-

১. কভার লেটার ছােট করুন
২. কভার-লেটারে শুধুমাত্র ক্লাইন্ট এর কাজ রিলেটেড কথাই লিখুন।
৩. আজাইরা কোন কথা লিখবেন না(প্রয়োজন নেই এমন কিছু লিখবেন না)
৪. এমন ভাব ধরবেন না যেন, কাজটা না পেলেই নই।
 ৫. সাধারনভাবে  লিখুন যেমন-টি তুমি কারও কাছে আবেদন করছেন, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অযথা একে বড় করবেন না।
৬. কিছু কিছু সময় দেখবেন বায়ার এর পুরাে কাজের বর্ণনা আপনি পড়েছেন কিনা সেটা টেস্ট করার জন্য ক্লাইন্ট আপনাকে আপনার বিডের প্রথমে কোন কিছু লিখে দিতে বলতে পারে সেটা খেয়াল করুন।
৭. কখনই বায়ার এর পুরাে বর্ণনা না পরে বিড করবেন না।
৮. বিড করার সময় কোনভাবেই তাড়াহুড়া করবেন না। সব সময় একটা কথা মাথায় রাখবেন যে, যদি ৫ মিনিট সময় বেশি নিয়েও বিড করে যদি কাজটি পেয়ে যান তাহলে সেটা আপনার লাইফ কেই পরিবর্তন করে দিতে পারে
 ৯. বিড করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই কাজটি কি ধরনের হতে পারে এবং কি কথা লিখলে বায়ার  বিশ্বাস করবে যে আপনি কাজটি করতে পারবেন। 
সর্বশেষ এবং সবচেয়ে বেশি Importen যে ট্রিক তা হচ্ছে, ক্লাইন্টকে বিড করার সাথে সেই কাজ রিলেটেড কোন attachment জুড়ে দিতে পারেন। এই জন্য আপনাকে আগে থাকতেই word বা excel এ আপনি যেই ধরনের কাজ করেন সেই ধরনের কাজের একটি নমুনা বানিয়ে রাখতে পারেন। ঐ একই নমুনা ঐ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে বিড করার সময় সাবমিট করুন। দেখবেন সফলতা পাবেনই ইনশা আল্লাহ। আর হ্যা, বিড করার সময় খেয়াল রাখুন, ঐ ক্লাইন্ট এর জায়গায় যদি আপনি থাকতেন তাহলে কাকে কাজ দিতেন, বিডে কি লিখলে আপনি কাজ দিতেন। ঠিক তাই লিখুন। এক্ষেত্রে আপনিই আপনার বড় বন্ধু এবং গাইড। পারলে শুধু লিখে দিন, আমি এই কাজ পারি এই দেখুন প্রমান, (সাথে আপনার কাজের একটি নমুনা যােগ করে দিন।) তারপর দেখুন কাজ হয় কিনা??

ফ্রীল্যান্সিং] কিভাবে বুঝবেন কাজ পেয়েছেন কি??

আসলে প্রায় সব ক্লাইন্টই কাজ আপনাকে দেয়ার আগে আপনার সাথে মেসেজে কথা বলবে। ভয় পাবার কিছুই নাই, কোন কাজে বিড করার পর যদি ক্লাইন্ট আপনাকে মেসেজ পাঠায় তাহলে আপনি ওডেস্কে লগইন করার পরই আপনার ক্লাইন্টের মেসেজ দেখতে পাবেন। এই জন্য চেষ্টা করবেন যথাস্মভব খােজখবর রাখার জন্য। আর ক্লাইন্ট যদি একবার মেসেজ পাঠায় তখন যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি এর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবেন। তা না হলে কাজ নাও পেতে পারেন। মেসেজে ক্লাইন্ট আপনাকে হয়ত কোন কিছু করে দিতে বলবে এটা বােঝার জন্য যে, আপনি কাজটি পারেন কিনা। ক্লাইন্টের এই টেস্টে যদি পাশ করেন তাহলে কাজটি পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।


[ফ্রীল্যান্সিং] টাকা তুলবেন যেভাবে :-

এই ভাবে অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হলে আপনি টাকা তুলতে পারবেন। আসলে ইচ্ছা ছিল টাকা তােলার পুরাে প্রসেস টা আপনাদের ভিডিও টিউটোরিয়াল এর মাধ্যমে দেখানাের জন্য কিন্তু এতে সিকিউরিটির চরম ঝুকি থাকার জন্য লিখেই দিতে হচ্ছে। ওডেস্কে টাকা তােলার কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই, আপনি ২ ডলারও তুলতে পারবেন, কিন্তু ৩০ ডলার এর নিচে যদি টাকা তুলেন তাহলে মনে হয় তেমন একটা সুবিধা হবে না, কারন প্রথম অবস্থায় আপনার কিছু ডলার চার্জ হিসেবে কাটা যাবে। আসল কথায় আসি, আপনি মানি বুকারস (Skrill) এর মাধ্যম টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু প্রতি ট্রাঞ্জেকশান এ আপনার ১ ডলার করে চাজ কাটা যাবে। এর জন্য আপনাকে
www.moneybookers.com এ গিয়ে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর নাম দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে, এবং অ্যাকাউন্ট খােলা হয়ে
গেলে, Add a Bank Account এ গিয়ে আপনার ব্যাংক এর ইনফরমেশন দিতে হবে। সব তথ্য ঠিকঠাক মত দিবেন। সব ঠিকঠাক থাকলে ৩ দিনের মধ্যে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড হয়ে যাবে, এর পর আপনার ওডেস্কের ডলার আপনি Moneybookers মানে Skrill এর মাধ্যমে Withdraw করবেন। ফলে এই ডলার আপনার ওডেস্ক থেকে Moneybookers এ চলে যাবে। এরপর আপনি মানি বুকারস এর অ্যাকাউন্টে ডলার দেখতে পাবেন। এই ডলার এখন আপনি সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তুলতে পারবেন। টাকা আসতে দুই থেকে তিন দিন লাগতে পারে।

Leave a Comment