[ফ্রীল্যান্সিং] নতুনদের জন্য অ্যাকাউন্ট খােলা এবং ক্লাইন্ট সতর্কতা।

 এর আগের তিনটি পোস্ট এ ফ্রীল্যান্সিং এর বেসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারনা এবং খুটিনাটি নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে। যারা এই খন্ড প্রথম দেখছেন অবশ্যই আমাদের সাইট থেকে আগের পাট দুটি দেখে নিন। আজকের পাটি থাকছে ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য দুই ধরনের কাজ এবং নতুনদের জন্য অ্যাকাউন্ট খােলা এবং ক্লাইন্ট সতর্কতা।

কাজ শুরু করার আগের কিছু কথা

 আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই মহান আল্লাহ্ তায়ালার রহমতে ভাল আছেন। আমিও তার দয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ বেশ ভালই আছি। 

আপনি যদি আগে থেকেই জানেন যে, odesk কি এবং কীভাবে এতে কাজ পেতে হয় তাহলে ভাল আর যদি না জানেন তবে ডাল করে মনােযােগ দিয়ে পড়ুন। যদিও আগে আলােচনা করেছি তবুও আরেকবার একটু হাইলাইট করছি।

[ফ্রীল্যান্সিং] নতুনদের জন্য অ্যাকাউন্ট খােলা এবং ক্লাইন্ট সতর্কতা।

Odesk কি? 

0desk হল পৃথিবীর অন্যতম সেরা ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেখনে রয়েছে প্রচুর কাজ। এখানে আপনি কাজ করতেও পারবেন আবার মানুষকে দিয়ে কাজ করাতেও পারবেন। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাজ। এর মধ্যে Web Developing এবং SEO এর প্রচুর কাজ রয়েছে।
ওডেঙ্ক এর ওয়েবসাইট এর ঠিকানাঃ- http://odesk.com
Odesk.com এ account খােলা এবং কাজ পাওয়ার সিস্টেম- Odesk.com এ কাজ করতে হলে আপনাকে আগে একটা account খুলতে হবে। account খােলার জন্য www.odesk.com এ যান, তারপর Want A Job ? Sign Up এ ক্লিক করুন।
(সাইন আপ এ ক্লিক করার সময় লক্ষ করুন, দুই রকমের সাইন আপ সিস্টেম রয়ে়ছে, প্রথমটি হল যিনি কাজ দিবেন মানে বায়ার বা ক্লাইন্টদের জন্য আর দ্বিতীয়টি হল ওয়ার্কার বা আপনার জন্য)
তারপর আপনার নাম, ঠিকানা দিয়ে যথাযথ ভাবে সকল ঘর পূরণ করুন। মনে রাখবেন এখানে আপনি যে নাম দিবেন তা যেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর নামের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়, তা না হলে টাকা তােলার সময় অথবা অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার সময় ঝামেলা হতে পারে। আপনার ঠিকানাও আপনার বর্তমান ঠিকানা দিবেন। তারপর আপনার ই-মেইল এ একটি মেইল যাবে, সেটিতে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
অ্যাকাউন্ট খুললেই আপনি কাজ পাবেন না ভাই। আপনাকে আগে রেডিনেস নামে একটি পরীক্ষা দিয়ে তাতে পাশ করতেই হবে, তাছাড়াও আপনাকে আরও অনেক কিছু ফিল আপ করতে হবে। এখানে আপনি কি কি বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী সেগুলাে ঠিক দিয়ে দিন। 
প্রতিটি কাজের জন্য আপনার প্রােফাইল একটু একটু করে কমপ্লিট হতে থাকবে এখানে আপনি আপনার পােটফোলিও যােগ করতে পারবেন৷ পেটফোলিও হচ্ছে আগের কাজের নমুনা। মােটামুটি ৮০% প্রোফাইল কমপ্লিট হলেই আপনি কাজ করার জন্য আবেদন করার অনুমতি পাবেন। তবে প্রােফাইল ১০০% কমপ্লিট হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে দুই ধরনের কাজ রয়েছে। যেমন-
1.ফিক্সড প্রাইজ কাজ (fixed price work)
2.ঘন্টা হিসাব (hourly work)

Fixed Price Job:-

Fixed price work হল এমন সব কাজ যার পুরাে কাজটির মূল্য আগে থেকেই

নিধারিত থাকে। আপনি ওডেস্ক অথবা যে কোন ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটে গেলেই যখন নতুন কাজের তালিকা দেখবেন তখন কাজের হেডলাইনের নিচেই বা পাশেই দেখতে পারবেন এটা fixed price নাকি hourly rate এর কাজ। নতুনদের জন্য এ সকল কাজে বিড় না করাই ভাল, কারন, সকল কাজে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা কম থাকে, মানে কোন গ্যারান্টি নাই। ধরেন আপনি একটি 50$ এর fixed price কাজ করলেন। অনেক কষ্ট করে কাজটি সম্পূর্ন করলেন এবং তা আপনার বায়ারকে তা সাবমিট করলেন, এখন আপনার বায়ার তা পছন্দ করল না বা বায়ার ইচ্ছা করেই তা পছন্দ করল না। এখন তিনি যদি আপনাকে টাকা না দিয়ে ঝামেলা করে তাহলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না, আপনি যদি চান ওই ক্লাইন্টের নামে ডেক্স টিম এর কাছে নালিশ করতে চান তবে আপনি তা করতেও পারবেন এর ফলে কি হবে এইই বায়ার আপনাকে ডিপোজিট দিবেন, এর মানে হল তুমি তোমার কাজটি সুন্দর ভাবে করতে না পারায় তোমার বায়ারের সাথে আপনার পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। ফলে ডেক্স টিম এর একটি টিম মেসেজ এর মাধ্যমে আপনার ও আপনার বায়ারের কথা শুনবেন ও সিদ্ধান্ত নিবেন যে তারা কি করবেন। আপনি কাজটি করতে পারেন নাই নাকি আপনার বায়ার আপনার সাথে দুই নাম্বারি করছেন। ঘটনা যাই হােক না কেন তাদের  এর ফলাফল কিন্তু একই, তারা আপনার বায়ারকেই সাপােটি করবে, তার কারন আপনি যদি না থাকেন ফলে তাদের তেমন কোন লস নেই; আপনি যে কাজটা করতেন তা অন্য কেউ করবে, কিন্তু বায়ার যদি না থাকে তাহলে তারা একজন কাজ দাতাকে হারাবেন যাদের দিয়েই odesk এর বিজনেস। ফলে আপনি কাজ+টাকা+ আপনার রেপুটেশন সব হারাবেন। সাথে সাথে আপনার প্রোফাইলে one disput লেখা হয়ে যাবে, ফলে আপনি যখন অন্য কোন কাজে বিড করবেন তখন ক্লাইন্ট আপনার প্রােফাইলে গিয়ে দেখবে one disput তার মানে, তখনি তিনি ধরে নিবেন যে, আপনি কাজ পারেন না। তাই ভুলেও নতুন অবস্থায় fixed price এর কাজে বিড করবেন না। তবে একটু পুরাতন হলে করতে পারেন।


Hourly Rate Work:-

Hourly Rate Work হল ঘণ্টা হিসেবের কাজ। আপনি প্রতি ঘণ্টা একটা নি্দিষ্ট রেট

হিসেবে যত ঘণ্টা কাজ করবেন আপনার বায়ার আপনাকে তত ঘণ্টা হিসেবে যত টাকা আসে তা দিনে। আপনি নতুন অবস্থায় এই ধরনের কাজই করবেন, কেননা এই ধরনের কাজে কোন রিক্স থাকে না। আপনি যতটুকু কাজ করবেন আপনার বায়ার আপনাকে ততটুকুর টাকা দিতে বাধ্য থাকবেন। হ্যা, আপনার কাজ যদি পছন্দ না হয় তবে তিনি আপনাকে খারাপ ফিডব্যাক দিতে পারেন কিন্তু টাকা তাকে দিতেই হবে, তাই তাে আমি আগেই বলেছি যে, কাজ ভাল করে না শিখে তা করতে যাবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ক্লাইন্ট সিলেকশান:-

অনলাইনে কাজ করতে হলে ক্লাইন্ট সিলেকশন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অনেকেই নতুন অবস্থায় ফেইক ক্লাইন্ট এর কাজে বিড করে পরে টাকা পায় না, আর পরে বলে ফ্রীল্যান্সিং ভুয়া। আসলে দোষটা তারই কারন, তিনিই বুঝতে পারেন নি যে, ফ্রীল্যান্সিং ভুয়া নয়, ঐ ক্লাইন্টই ভুয়া। ওডেস্ক সহ বিভিন্ন ফ্রীল্যান্স মার্কেটে যে কেউ চাইলেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে কারন এটা ফ্রী। আর ঠিক এই সুযােগকেই কাজে লাগিয়ে অনেকেই তার নিজ স্বার্থ হাসিল করার জন্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সহজ সরল লােকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়। তাই সব সময় চেষ্টা করুন পেমেন্ট মেথুড ভেরিফাইড ক্লাইন্টের কাজে বিড করার জন্য। পেমেন্ট মেথুড ভেরিফাইড কিনা তা কাজের হেডলাইনের নিচেই দেখতে পাবেন। তাছাড়াও এশিয়া মহাদেশের ক্লাইন্টদের কাজে বিড না করাই ভাল। সবচেয়ে ভাল হয় ক্লাইন্ট যদি, USA, Australia, Canada এবং UK এর হয়।

Leave a Comment