মানসিক চাপ থেকে হার্ট অ্যাটাক | বুকে ব্যাথা উঠলে কি করবেন?

 মানসিক চাপ থেকে হার্ট এ্যাটাক

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস অতিমাত্রায় বাড়লে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হলে হার্ট এটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, কোলেস্টাবল বৃদ্ধি ইত্যাদি বিভিন্না মেটাবলিক লেগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের মতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কের হাইপােথ্যালামাস অংশ পিটুইটারী নামের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উজ্জীবিত করে, যা দ্রত অ্যাড্রিনাল নামক প্রন্থিকে অতিমাত্রায় কর্টিসােল নামে স্ট্রেস হরমােনের নিঃসরণে উদ্দীপ্ত করে। রক্তে কটিসােলের মাত্রাবৃদ্ধির কারণে বিপাকীয় কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়- কেউ কেউ অতিরিক্ত আহারে অভান্ত হয়। স্ট্রেস মােকাবিলায় ধূমপান, মদপানে প্রাসক হয় এবং সক্রিয় জীবন-যাপন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। এসব কারণে স্কুলতা বাড়ে মেদভুড়ির সৃষ্টি হয়, যা পরিণামে কুঁকিপূর্ণ রােগের জন্ম দেয়। স্বস্থ্য বিজ্ঞানীরা তাই মানসিক ঢাপ স্ট্রেস এড়াতে উপদেশ দিয়েছেন।

মানসিক চাপ থেকে হার্ট অ্যাটাক | বুকে ব্যাথা উঠলে কি করবেন?
মানসিক চাপ থেকে হার্ট অ্যাটাক | বুকে ব্যাথা উঠলে কি করবেন?

সুস্থহৃদযন্ত্রের  জন্যে সঠিক খাবার

বেশি বেশি চর্বি খেলেন, শাকসবজি মােটেই পছন্দ করেন না, আর ফাস্টফুড খেয়ে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসকের কাছে এসে বলছেন-এটি আটক থেকে মুক্ত থাকার ওধুধ দিন। কিন্তু তাতে হার্ট অ্যাটাক এড়াতে পারবেন না। হার্ট অসুস্থ হবেই। তাই হার্টকে সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়ােজন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেত্রন হওয়া। কিছু কিছু খাবার যা হার্টের রােগ হওয়ার কি যেমন বাড়ায় তেমনি কিছু খাবার হার্টের জন্য উপকারী, দরকারিও বটে।

প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খান। হার্ট সুস্থ থাকবে। কারণ, ফলমূল শাকসবজিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় উচ্চরক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। উচ্চরক্তচাপ না হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। সুস্থ থাকবে হার্ট। মাছের ডিম, মগজ, পনির, ডিমের কুসুম, মাখন যথাসন্তব এড়িয়ে চলুন। যদি প্রয়ােজন না হয় পাতে লাড়ৃতি লবণ নেওয়ার প্রয়ােজন নেই। দুধ খাবেন। কিন্তু ননি তােলা দুধ ও দই খান। হার্ট সুস্থ থাকবে।

মগজ বাদ দিয়ে বেশি বেশি মাছ খান। সামুদ্রিক মাছ আরও ভালাে। কারণ, মাছের তেলে আছে ‘ওমেগা মা হার্টের সুস্থতার জন্য বেশি প্রয়ােজন। তাই বেশি মাছ খান। মাংস না খাওয়াই ভালাে। ফ্যাটি এসিড’,

তবে সম্পূর্ণ নিষেধ নেই। সপ্তাহে একবার কম পরিমাণে খান, অর্থাৎ যতটুকু অভস্ত তার অর্ধেকের চেয়ে কম খান। চৰি। সঙ্গে থাকলে তা ফেলে দিন। কখনােই মুরগির চামড়া খাবেন না। তাহলে হাটে ও দেহে চর্বি জমবে না। হবেন সুন্দর দেহের অধিকারী, আকর্ষণীয়।

গাঢ় সবুজ শাকসবজি, মাছ, শালগম, সয়াবিন, শুকনা শিমের বিচি বেশি খাবেন। এগুলােতে আছে প্রচুর মাযাগনেসিয়াম। এই ম্যাগনেসিয়াম হার্টের সুস্থতা বাড়ায়।

যদি এই খনিজ পদার্থটির অভাব হয় তখন হার্টের রক্তনালি করােনারি ধর্মনি। হয়ে প৮ে হার্ট এটাক ত্বরাপিত করে। যারা বেশি মানসিক চাপে থাকেন ও অতিরিক্ত পরিশ্রম করে, তাদের দেহ গেকে মাগনেসিয়াম বেশি বের হয়ে মায এ শরীরকে নিস্তে করে। তাই এই অনিজ পদার্থযুক্ত খাবার খেলে হার্টের সুস্থতা বাড়বে।

শিমের বিচি এ মটরশুটিতে থাকে ‘নিয়াসিন’ নামের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা কোলস্টেরল কমিয়ে আনে অর্থাৎ মন্দ চৰি অল্প ঘনত্বের লাইপােপ্রােটিন (এলডিএল) হ্রাস পায়। তাই বেশি করে খান। আবার বেশি ঘনত্বের লাইপােপ্রােটিন (এইচডিএল) দেহের জন্য উপকারী। ভিটামিন সিযাবার যেমন লেবু, আমলকী, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, সবুজ শাকসবজি বেশি খেলে এইচডিএল বাড়ে।

হার্ট অ্যাটাক কমায়। তেমনি আঁশযুক্ত খাবার, ফল, সবজি, শস্যখাবার রক্তের চর্বি কমিয়ে আনে। আয়-স্বল্প বাদাম খেতে পারেন। এটি অসম্পৃক্ত চর্বি। ভালাে সয়াবিন তেল খান। কিন্তু টিনজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলাে বিপজ্জনক। টাটকা খাবার খান। দেহের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে বাখুন। যতটুকু সম্ভব হাসুন। দুশ্চিন্তা বা উঞ্জেনা নয়। সবার সঙ্গে গল্প করুন। গান গাইতে পারেন মনের আনন্দে। মজার বই পড়ন। সঙ্গে পরিশ্রম করুন। ভালাে খাকবে দেহ। ভালাে থাকবে মন।

বুকে ব্যথা হলে কী করবেন

হৃদরােগ সারাবিশ্বেই মারণব্যাধি হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এই ঘাতক ব্যাধিকে এক সময় শুধু ধনীদের রােগ হিসেবে গণ্য করা হতাে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ রােগ এখন ধনী-গরিব যে কোনাে বয়সেই আঘাত করছে। যাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে তারা বড় বড় হাসপাতালে অ্যানজিওগ্রাম, অ্যানজিওপ্লাষ্টি বা করােনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারির মতাে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারছেন। কিন্তু যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তাদের অনেকেই এইসব আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু ঘাতক ব্যাধি ঠিকই কেড়ে নেয় জীবন। এসব রােগী জানেন না কেন তার হৃদরােগ হয়েছে। এই বােগ কীভাবে প্রতিরােধ করা যেত অথবা এখন কী করণীয়।

বুকে ব্যথা হৃদরােগের একটি বিপজ্জনক সংকেত বা উপসর্গ। সাধারণত বুকের বাম দিকে ব্যথা শুরু হয় বা বাঁ হাত, ডান হাত, উভয় হাত, দাঁত, ঘাড় বা উপর পেটে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় হৃদরােগের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিকের ল্যথা ভেবে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না বা বিলম্ব করেন, যা অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় রােগীরা স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সঠিক রােগ শনাক্ত হয় না। অনেক সময় দেখা গেছে, হার্টঅ্যাটাক হয়ে গেছে তিনদিন আগে কিন্তু বােগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্পর্শে আরাে আগে এলেই এ রােগের ঝুঁকি কমাতে পারত। মনে রাখবেন-বুকে ব্যথা হলে, শরীরে ঘাম হলে, বমি বমি লাগলে বা বমি হলে কালক্ষেপণ করবেন না। হাসপাতালের ইমার্জেসিতে অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। বিলম্বে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। কারণ হার্টঅ্যাটাকে শতকরা ২৫ জন এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। যারা রয়ে গেল তাদেরও শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত রােগী সময়মত হাসপাতালে পৌঁছলে ওষুধের চিকিৎসার পাশাপাশি আজকাল প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয় যা আধুনিক বিশ্বে স্বীকৃত চিকিৎসা। বাংলাদেশেও অনেক চিকিৎসক প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টির মতাে আধুনিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে হাসপাতালের সুযােগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন।

বয়স চল্লিশের উপরে গেলে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত এবং জানা উচিত হৃদরােগের কোনাে ঝুঁকিতে আপনি আছেন কি না। যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসে ভুগছেন কি না? রক্তের চর্বির পরিমাণ বা লিপিজ প্রােফাইল কেমন? এছাড়া পরিবারে হৃদরােগজনিত সমস্যার ইতিহাস আছে কি না? তাই আপনার চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন আপনার হৃদরােগের ঝুঁকি আছে কি না বা হৃদরােগে ভুগছেন কি না? এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় বা চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে বিশদভাবে আলােচনা করুন। মনে রাখবেন, হৃদরােগীদের আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকেই যায়। মাত্র কয়েক মিনিটে এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি ঘটলেও এই মারাত্মক ব্যাধির উপসর্গ জেনেও প্রতিরােধ করা সম্ভব। এছাড়া যেসব রােগী ইতোমধ্যে একবার হার্টঅ্যাটাক বা আনষ্ট্যাবল অ্যানজাইনার শিকার হয়েছেন তাদেরও হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি আছে, যা এখনাে সারাবিশ্বে এক বড় আতঙ্ক। যারা ইতােমধ্যে একবার হার্টআ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আবারাে হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি রয়ে যায়। আরেকটি ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ তা হলাে এসব রােগী দ্বিতীয়বার বা পুনরায় হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হবার ভয়ে থাকায় মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব রােগীর মানসিকভাবেও সাহায্য করা উচিত। আর তাই চিকিৎসক ও রােগীর মধ্যে প্রয়ােজন বন্ধুত্বপুর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক। রােগী যাতে তার চিকিৎসকের সঙ্গে খুঁটিনাটি সব সমস্যার কথা ভাগাভাগি করতে পারে। এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। হৃদপিন্ডের রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা করােনারি আর্টারিতে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থের সংমিশ্রণে এথারােসক্লোরােসিস হয়ে রক্তের অবাধ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে হৃদপিন্ডের এই মাংসপেশিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ অবস্থ্যকেই বলা হয় করােনারি আর্টারি ডিজিজ। কখনাে কখনাে করােনারি আর্টারি চর্বি বা কোলেষ্টেরল জমে আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অ্যালজাইনা থেকে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে। হৃদরােগের উপসর্গঃ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, শরীর ফুলে যাওয়া, শরীর নীল হয়ে যাওয়া ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

হৃদরােগের ভয়াবহতা থেকে রেহাই পেতে নিমােক্ত সুপারিশ মেনে চলা উচিত

রক্তের চাপ বা ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখা

* ডায়াবেটিস বা ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা

* এলডিএল বা খারাপ কোলেষ্টেরল ১০০ মিগ্রা নিচে রাখা

* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা

* ধূমপান ত্যাগ করা এবং

* কায়িক শ্রম বা প্রত্যহ হাঁটাহাঁটি করা।

বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসকের উচিত রােগীর একটি ইসিজি করা। কখনাে কখনাে ইকোকার্ডিওগ্রাফিও করা হয়ে থাকে।

রােগীর ইমার্জেন্সি চিকিৎসা প্রয়ােজন হলে অ্যাসপিরিন ৩০০ দিতে হবে। এ ছাড়া নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে জিহ্বার নিচে দেয়া লাগতে পারে। অন্যান্য আরাে ওষুধ ক্ষেত্র বিশেষে বা রােগীর অবস্থাভেদে ব্যবহৃত হয়। যেমন-ক্লোপিডোগোল, বিটা। ব্লকার, এসিই ইনহিবিটর, ষ্ট্যাটিন হেপারিন। কখনাে কখনাে স্ট্রেপটোকাইনেজ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া আজকাল জিপি ২বি ৩এ ইনহিবিটর ব্যবহৃত হয়।

মনে রাখবেন, করােনারি আর্টারি ব্লকেজের ওপর নির্ভর করেই রােগের তারতম্য হয়ে থাকে। কখনাে কখনাে ওযুধের চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। আবার কখনাে কখনাে অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে ব্লকেজের শতকরা হার জেনে করােনারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয়। এছাড়া কখনাে কখনাে রােগী বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছলে প্রাইমারি

অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয়। ব্লকেজের অবস্থা ভেদে কখনাে কখনাে বাইপাস সার্জারিও করা হয়।

Leave a Comment