হার্ট ভালো রাখার উপায় | লিভার সুস্থ্য রাখার উপায়।

 লিভার আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লিভারের সমস্যায় জন্ডিস হয়ে থাকে। কারাে হলুদ জন্ডিস বা কারাে মেটে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। অরুচী, শরীর কাড়া এর প্রাথমিক লক্ষণ। দীর্ঘদীন বিরামহীন পরিশ্রম করলে ও নানা রকম দোষনীয় খাবার থেকে, দুষিত পানি থেকে জন্ডিস হয়ে থাকে। আর জন্ডিস হলে

(ক) আখের গুড় বা চিনি,

(খ) বিশুদ্ধ পানি,

(গ) এক চিমটা লবণ এবং

(ঘ) এক টুকরাে লেবুর রস মিশিয়ে চার গ্লাস সরবত বানিয়ে খাবেন।

হার্ট ভালো রাখার উপায় | লিভার সুস্থ্য রাখার উপায়।
 

এই সরবত দৈনিক ৩/ ৪ বার ৪ গ্লাস করে খেলে জন্ডিস রােগ উপসম হয়। লিভার ভাল রাখতে হলে প্রচুর পরিমানে বিশদ্ধ

পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত ভােজন করা যাবে না, এতে প্রয়ােজনীয় পিত্ত রসের অভাবে আদা হজমে সমস্যা হতে পারে। লিভার থেকে পিত্ত রস বের হয়ে ফাট/ মাংশ জাতীয় খাদ্য হজমে সহায়তা করে কঠিন খাবার কম খাবেন, আর নানা ফল, তবল/জুস/সুপ জাতীয় খাবার বেশী খাবেন। আখের রস, লেবুর রস, আনারস, তুলসি পাতার রস/তুলসি চা, থানকুনি পাতার রস/বড়া, পালং শাক খাবেন ও তরকারীতে আদা, পিয়াজ, রসুন, এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি ব্যবহার করবেন। হামর্দদের দিনার/ইকটার্ন সিরাপ বা অনুরূপ সিরাপ খেলে জ্ডিস কমে ও লিবার প্রদাহ ভাল হয়। উল্লেখ্য যে, লিভার ক্যান্সার হলে রোগীকে বাচাঁনাে কঠিন হয়ে পড়ে। কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যের লিভার সংযােজন করে অথবা কেমােথেরাপী/রেডিওুথেরাপীর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়, যাহা ব্যয় বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে বিষল হয়ে জীবন অবসান ঘটতে পারে। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে বড় ৪ গ্লাস পানি পান করবেন এবং সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দুই ঘন্টা পর পর ৩/৪ গ্লাস করে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। রাতে ঘুম কম হলেও উক্ত পানি চিকিৎসায় উপকার হবে। অত্যধিক পরিশ্রম ও অহেতুক নানা কাজে সময় নষ্ট করে শরীরে অসম্ভব চাপ/আমাত লাগানাে যাবেনা। নিয়মিত বিশ্রাম নিতে হবে।


হার্ট ভাল রাখার উপায়:-

হার্ট (হৃদয়) মানুষের শরীরের এক অদ্ভুত ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন ভালাে রেখে দীর্ঘ দিন বাঁচতে হলে সকল রকম এ্যানিমেল ফুড কম খান বা এড়িয়ে চলুন । অতিরিক্ত মিষ্টি খাবেন না। ফল কোলেক্টরল মুক্ত, তাই নিয়মিত ফল খান। ব্লাড প্রেসার হলেও ফল খাওয়া যায় । হলুদ, কমলা ও লাল রঙ্গের ফল ও শাক সবজি বেশী খান। এতে হার্ট ও মস্তিষ্ক ভাল থাকবে। ফলের ফাইবারের সাহাযাে ওবিসিটি ও হার্টের অসুখ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফল শেলে ফ্যাট কমে ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রিত হয়।

বয়স ৩৫/৪০ এর পর রক্তে খারাপ কোলেষ্টরেল এলডিএল কমাতে হবে এবং ভাল কোল্টেরেল এইচডিএল বাড়াতে হবে। সামুদ্রিক মাছে ওলিভঅয়েল, সান ফ্লাওয়ার, কর্ন অয়েলের তৈরী ফ্যাট রক্ত জমাট বাধতে দেয় না, তাই এইচডিএল কোলেক্টরেল বাড়াতে হলে ছোট মাছ ও সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে এবং খারাপ কোলেষ্টৱেল কমাতে রেড মিট, গরু, খাসির মাংশ ডিমের কুসুম, মাথার মগজ ইত্যাদি খাওয়া কমাতে হবে বা বয়স্কদের জন্য ছেড়ে দেয়া উত্তম। পরিমিত আহার, নিয়মিত পরিশ্রম, ব্যায়াম, পরিমিত ঘুম (কম পক্ষে ৭/৮ ঘন্টা) ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। অধিক রাত জাগা যাবে না।

অতিরিক্ত রাগ/ উত্তেজিত হওয়া যাবে না। ধৈর্য ধরতে হবে এবং মনােবল বুদ্ধি করে জীবনে পথ চলতে হবে। টেনশন দূর করতে হবে, এ্যালকোহল, সিগাৱেট তামাক ইত্যাদি খাওয়া যাবে না। মাংস/ চর্বি জাতীয় খাবার খেলে পাশাপাশি লেবু, শশা, টমেটো ইত্যাদি খেতে হবে। দৈনিক সন্ধ্যায় অন্তত ৩০মিনিট হাটতে হবে। হার্ট ভাল রাখতে মন ভাল রাখতে হবে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। জলপাইয়ের তেলের অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ রােগের উপকার করে। সামুদ্রিক মাছ, তুলসি পাতার রস/ তুলসি চা, রসুন, আদা, পিয়াজ, লেবু নিয়মিত ও পরিমিত খেলে হার্ট ভাল থাকে। আদা, পিয়াজ, রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমায়। রসুনে রয়েছে এ, বি, সি, ডি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, আয়ােডিন ও জীবানু নাশক ৬টি শক্তি। মাঝে মধ্যে অরিজিনাল মধু খেলে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, এতে হার্ট সুস্থ থাকবে।

আত্বীয় স্বজন ও অন্য মানুষের কল্যানে সময় ব্যয় করলেও মনে আনন্দ আসে ও হৃদয় স্বাভাবিক থাকে। ভাল কাজ করলে মনে শান্তি আসে এবং হার্টও সবল থাকে।
 
হার্টের মূল ৪টি বড় শিরা/ধমনীর ১/২টি ব্লক হলেই তৈল ছাড়া রান্না আাদ্য animal food বর্জন ও নিয়মিত যােগন্যায়াম করতে হবে। হার্ট উপকারী চর্বির খাদ্য, জলপাই, চিনাবাদাম, কলা, সয়াবিন, বরবটি, সীম, শসা, শালগম, সবুজ/রঙ্গিন শাক-সবজি ইত্যাদি খেতে হবে। অতিরিক্ত চর্বি দেহে থাকলে ক্যান্সার, টিউমার ইত্যাদি হতে পারে। ডিমের লালা বা সাদা অংশে কোন চর্বি থাকে না। ফল মূল, গম, ভুট্টা, চাল, জোয়ার, বাদাম, শাক-সবজিতে চর্বি থাকেনা বললেই চলে। মগজ, ডিমের কুসুম, কিডনী, যকৃত, মাখন, চিংরি মাছ, গাে মাংশ, খাসির মাংস ইত্যাদিতে বেশী বেশী পরিমান কোলষ্টরেল থাকে। যাদের হৃদৱেগ আছে বা ব্লকেজ আছে তাদের দীর্ঘ ভ্রমন থেকে বিরত থাকতে হবে, দীর্ঘ ভ্রমনে হৃদরােগ বাড়ে।
 
হার্টের ধমনীতে ব্লক প্রথমবার ধরা পড়লে বা বাইপাস সার্জারীর পর পুনরায় ব্লকজ দেখা দেখা দিলে বা যাদের আপাতত কোন সমস্যা নেই তবে হৃদরােগকে প্রতিরােধ করতে চান তারা নিয়মিত যােগব্যায়াম, ধ্যান করা, দৈনিক নিয়মিত ৪৫ মিনিট করে হাটা এবং কোলেষ্টরল কমানাের ঔষধ খেয়ে কিন্তু মাংস, বড় মাছ বাদ দিয়ে এবং তৈল ছাড়া সবজি ও অন্যান্য তরকারী রান্না করা খাবার খেয়ে নারী ধমনীর ব্লকেজ থেকে মুক্ত হতে পারেন। ভারতের ডাক্তার বিমল ছাজেড় এর সাওল এবং আমেরিকান ডাক্তার অনিশ এর জীবন যাপনের পরিবর্তন কর্মসূচীর মাধ্যমেও হাজার হাজার রােগী ধমনীর ব্লকেজ থেকে সুষ্টিকর্তার ইচ্ছেয় মুক্ত হচ্ছেন। যারা জীবন যাপন পদ্ধতির পরিবর্তন করে নিয়মিত যােগ ব্যায়াম, ধ্যান করা, ফ্যাট জাতীয় খাবার কমিয়ে দেয়া বা না খাওয়া, টেনশনমুক্ত থাকা, দৈনিক ৪৫ মিনিট একটানা হাটা ইত্যাদি পালন করতে পারবেন তারা সাওল(সাইন্স এন্ড আর্ট অফ লিভিং) পদ্ধতিতে ব্লকেজ মুক্ত থাকতে পারবেন। আমেরিকান পিটিকিন রায়া প্রােগ্রামও হৃদরােগ নিরাময় করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। প্রিটিকিন পদ্ধতিতে রান্না করা খাবার নিয়মিত খেলে আমাদের আয়ুস্কালও বেড়ে যাবে। এই রান্নায় তেল, ঘি, চিনি বর্জন করা হয় মাত্র। তাই প্রেসার কুকারে ও নন স্ট্রিকিং ফারইপান প্রিটিকিন রাল্নায় ব্যবহার করতে পারেন। কোলেষ্টরলের পরিমান শরীরে কম/বেশি থাকার পরিণাম
 
ইহা কম থাকলে স্মরণশক্তি কমে যেতে পারে, ক্যান্সার, স্ট্রোক ও বন্ধাত্ব হতে পারে। আবার কোলেষ্টরল কামিত পরিমানের চেয়ে বেশি থাকলে হার্টের বেইন/ শিরা-উপশিরা ব্লক হয়ে স্ট্রোক ও হার্ট এ্যাটাক হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরে রক্ত চলাচল/সঞ্চালন কমে যায় ও মাথায় কম কাজ করে। তাই একাধারে অনেকক্ষন বসে থাকতে নাই বা অহেতুক দিনে শুয়ে থাকতে নাই। দৈনিক সকালে ও সন্ধ্যায় একটানা অন্তত: ৩০-৪৫ মিনিট করে হাটলে শরীরের রক বার্নিং হয়, বিতদ্ধ হয় ও রগ/বেইন প্রশস্থ হয়, ব্লকেজ থাকলে । বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে খুলে যেতে পারে।

Leave a Comment